সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

🗓 শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৮ বার দেখা হয়েছে

রোতাব চৌধূরী :: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদারকি করেছেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার।

শুক্রবার কক্সবাজার জেলার ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় তিনি এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট থেকে আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মাঠপর্যায়ে সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের ৬ নম্বর ঘাটে নৌযান শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন সচিব।

এ সময় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ শামীমুল হক, যুগ্মসচিব ড. দিপংকর রায়, নৌযান শুমারি কার্যক্রমের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন, যুগ্ম পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা এবং ফিশিং বোট মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কক্সবাজার জেলা পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘাটে অবস্থানরত বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং নৌযান শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

বিশেষ করে সমুদ্রগামী ফিশিং বোটসহ বিভিন্ন ইঞ্জিনচালিত নৌযানের নিবন্ধন, মালিকানা, ধরন, ব্যবহার, ধারণক্ষমতা, নির্মাণসংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

এ সময় সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অবহিত হন। তিনি শুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের নির্ভুলতা, সম্পূর্ণতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সচিব বলেন, একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান ডাটাবেইজ তৈরির জন্য মাঠপর্যায়ে প্রতিটি নৌযানের সঠিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য শুমারি কর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

পরে ৬ নম্বর ঘাটে ফিশিং বোট মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সচিব। এ সময় সমিতির প্রতিনিধিরা ফিশিং বোট ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা ও তাঁদের দাবির বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে পল্টুন অপসারণের বিষয়ে তাঁরা সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সচিব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা দ্রুত উপস্থাপনের উদ্যোগ নেন। তাঁর তাৎক্ষণিক উদ্যোগে ফিশিং বোট মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ফিশিং বোট মালিকদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

যুগ্মসচিব ড. দিপংকর রায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকালে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া, নৌযান শনাক্তকরণ ও তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি শুমারি সমন্বয়কারীদের মাঠপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, নৌযান মালিক, চালক, নাবিক ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ শামীমুল হক তথ্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্ন যথাযথভাবে প্রয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

তিনি নৌযান শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই এবং ট্যাবলেটের মাধ্যমে CAPI (Computer-Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মহাপরিচালক বলেন, শুমারির তথ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ দেশের নৌপরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ শুমারির মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেইজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়নে এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনকালে মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও নৌযান শুমারি বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। ফিশিং বোট মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা শুমারি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি তাঁরা ফিশিং বোট মালিকদের শুমারি কর্মীদের সঠিক তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করা এবং নৌযান শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে তাঁদের ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা কক্সবাজার অঞ্চলে মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত ফিশিং বোট ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা শুমারি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, নৌযান মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ে সঠিক, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের নৌপরিবহন খাতের জন্য একটি শক্তিশালী জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর