বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে দেশের চলচ্চিত্র

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

👁️ ১০৮ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

👁️ ১০৮ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঈদ বরাবরই সিনেমা মুক্তির বড় মৌসুম হিসেবে পরিচিত।

এবারো আসন্ন রোজার ঈদকে ঘিরে সম্ভাব্য ১৬টি সিনেমা মুক্তির ঘোষণা এসেছে।

নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আদৌ এতগুলো সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পাবে কি? এবং যদি পায়ও, এ সীমিত প্রেক্ষাগৃহে কোথায় প্রদর্শিত হবে?

গত বছর দুই ঈদ মিলিয়ে প্রায় ১২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। সে তুলনায় এবার এক ঈদে ১৬টি সিনেমার ঘোষণা অনেকের কাছে বেশ উচ্চাভিলাষী মনে হচ্ছে।

একসময় বছরজুড়ে নতুন সিনেমা মুক্তির আমেজ থাকত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ঢাকাই সিনেমা এখন অনেকটাই ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।

বছরের বাকি সময়ে খুব কম সিনেমা মুক্তি পায়, আর প্রযোজক-পরিচালকদের মূল লক্ষ্য থাকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দেয়া।

ছুটি, পরিবার, ঘোরাঘুরি আর বিনোদনের এ সামাজিক প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে নির্মাতারা দর্শককে হলমুখী করতে চেষ্টা করেন।

ফলে ঈদের সময় একাধিক বড় সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ‘প্রিয়তমা’, ‘সুড়ঙ্গ’ বা ‘তুফান’-এর মতো সিনেমা এ সময়ে মুক্তি পেয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে এবং ব্যবসায়িক সফলতাও পেয়েছে।

বর্তমানে দেশে বছরের চলমান প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা মাত্র ৬০-৭০। ঈদ উৎসবে সাময়িকভাবে কিছু প্রেক্ষাগৃহ চালু করা হলেও মোট সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৪০-এর কাছাকাছি।

এর মধ্যে অনেক হলে বসে সিনেমা দেখার জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই। এ সীমিত প্রেক্ষাগৃহ নিয়েই শুরু হয় ঈদ উৎসবের ‘হলযুদ্ধ’।

কে আগে কোন প্রেক্ষাগৃহ দখল করবে, কোন সিনেমা কতগুলো শো পাবে, সব মিলিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে।

বরাবরের মতো এবারো এ যুদ্ধ আগের চেয়ে আরো জটিল এবং চাপযুক্ত হতে পারে এটা বোঝাই যাচ্ছে, বিশেষত যখন ১৬টি সিনেমার মুক্তির ঘোষণা এসেছে।

আসন্ন ঈদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন শাকিব খান, যিনি ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’-এ নব্বই দশকের গ্যাংস্টার চরিত্রে দর্শকের সামনে আসছেন।

আফরান নিশো ‘দম’ সিনেমায় বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন, আর সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চ্যাটার্জির ‘রাক্ষস’, বুবলী ও নাজিফা তুষির ‘প্রেশার কুকার’ও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া সাহিত্যনির্ভর সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘বনলতা সেন’ এবং ‘রঙবাজার’, পোশাক শিল্পের গল্প ‘কাট পিস’ও মুক্তির তালিকায় রয়েছে।

সম্ভাব্য মুক্তির তালিকায় আরো আছে ‘পিনিক’, ‘ট্রাইব্যুনাল’, ‘হাঙর’, ‘মালিক’, ‘দুর্বার’, ‘ডোডোর গল্প’, ‘তছনছ’ ও ‘অফিসার’।

অধিকসংখ্যক সিনেমার কনটেন্টের এ বৈচিত্র্য দর্শককে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রযোজকদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ঈদ মৌসুমে অধিকসংখ্যক সিনেমা মুক্তির বিষয় নিয়ে নির্মাতা তানিম নূর বলেন, ‘‌বাংলা সিনেমা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

ঈদকে ঘিরে সবার মধ্যেই একটি বিশেষ তাড়না কাজ করে, কারণ এ সময় দর্শক তুলনামূলকভাবে অবসর থাকে।

তাই নির্মাতারা স্বাভাবিকভাবেই সময়টিকে সিনেমা মুক্তির জন্য উপযুক্ত মনে করেন। বাণিজ্যিক দিক থেকেও ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা অনেক ভালো সাফল্য পায়।

তবে তিনি মনে করেন, একসঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক সিনেমা মুক্তি পেলে শেষ পর্যন্ত সেটি কারো জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না।

তিনি আশাবাদী, সামনে হয়তো এ নির্দিষ্ট সময়নির্ভর মুক্তির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাবে। তখন বছরজুড়েই নিয়মিত সিনেমা মুক্তি দেয়া সম্ভব হবে।

ব্যক্তিগতভাবেও তিনি সারা বছরে সিনেমা মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘‌আমি নিজেও সামনের দিকে ঈদ ছাড়া সিনেমা মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করব।

‌চলচ্চিত্রের ওপর অতিরিক্ত ঈদনির্ভরতা কমাতে পারলে দেশের সিনেমা শিল্পের জন্য তা ইতিবাচক হবে। যদিও আমার নিজের সিনেমাটিও এবার ঈদে মুক্তি পাচ্ছে।’

তবু তিনি মনে করেন, প্রত্যেক নির্মাতারই অধিকার ও স্বাধীনতা আছে নিজের পছন্দমতো সময়ে সিনেমা মুক্তি দেয়ার।

চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াতও একই সুরে কথা বলেন, তিনি বলেন, ‘‌ঈদে সবাই সিনেমা মুক্তি দিতে চায়, কারণ তখন দর্শক বেশি হলমুখী থাকে।

তবে এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। বছরে শুধু দুই ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তি দেয়ার কারণে বছরের বাকি সময় হলগুলো প্রায় ফাঁকা থাকে।

এতে ধীরে ধীরে দেশের বিদ্যমান হলগুলোর টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।’

তার মতে, প্রযোজক সমিতি ও ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত যেন ঈদে সর্বোচ্চ চার-পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পায়।

বাকি সিনেমাগুলো সারা বছর পরিকল্পিতভাবে মুক্তি দেয়া প্রয়োজন। এ অভ্যাস থেকে বের হতে না পারলে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করবেন।

ঈদে চার-পাঁচটির বেশি সিনেমা মুক্তি পাওয়া সবার জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক পরিশ্রম ও বিনিয়োগে একটি সিনেমা নির্মাণের পর যদি যথেষ্ট হল বা সিনেপ্লেক্সে শো না পাওয়া যায়, তাহলে ভালো সিনেমাও দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারে না।

মাত্র দুই বা তিনটি শো দিয়ে কোনো সিনেমার টিকে থাকা সম্ভব নয়।

বড় তারকাবহুল সিনেমা ৮০-১২০টির বেশি প্রেক্ষাগৃহ পেলে, ছোট ও মাঝারি বাজেটের সিনেমার হলসংখ্যা অনেক কমে যায়।

এতে অনেক সিনেমা প্রথম সপ্তাহেই হল হারিয়ে ফেলে, দর্শকের নজরে আসার আগেই ‘ফ্লপ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

সাহিত্যনির্ভর বা এক্সপেরিমেন্টাল কনটেন্ট-ভিত্তিক সিনেমাগুলোও বড় তারকা ও বাজেটবহুল সিনেমার ছায়ায় সহজে পিছিয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি প্রযোজকদের ঝুঁকি বাড়ায়, দর্শকও বছরের বাকি সময় মানসম্মত সিনেমার অভাব অনুভব করে।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তি প্রযোজকদের জন্য ঝুঁকি কমায়, বড় সিনেমা সহজে প্রচার পায়, আর ব্যবসার সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

তবে বছরের বাকি সময় হল ফাঁকা থাকে, ছোট ও মাঝারি বাজেটের সিনেমা প্রদর্শনের সুযোগ কমে যায়, আর প্রযোজকরা ঝুঁকি নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

নতুন প্রজন্মের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা ভিন্নধর্মী কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছেন।

যদি সারা বছর মানসম্মত সিনেমা তৈরি ও মুক্তি নিশ্চিত করা যায়, ঢাকাই সিনেমা শুধু ঈদকেন্দ্রিক না থেকে আবারো বছরের মূল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে জায়গা নিতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

রামুতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর

রামুতে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬