বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানের মাঝামাঝিতে দাম বেড়েছে মুরগি ও গরুর মাংসের

🗓 শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৮৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৮৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৬ মার্চ) :: ঈদকে সামনে রেখে রমজানের মাঝামাঝিতে বেড়েছে গরু ও মুরগির মাংসের দাম। তবে ডিমের দাম আরো কমেছে। একই সঙ্গে চাহিদা কমায় সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল ছুটির দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি, মাছসহ নিত্যপণ্যের সঙ্গে গরুর গোশতেরও দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বাজারে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার অন্যান্য বাজারে এ মুরগি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কিছুটা বেড়েছে সোনালি মুরগির দামও। কারওয়ান বাজারে সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল।

রাজধানীর কোনো কোনো বাজারে এর দাম ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এর আগের সপ্তাহে সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দেশী মুরগি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬৫০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা আলম হোসেন বলেন, ‘মানুষের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদ সামনে থাকায় মাংসের চাহিদা বাড়ছে।’

একই সঙ্গে বাজারে বেড়েছে গরুর গোশতের দামও। দীর্ঘদিন ধরে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া গরুর মাংস গতকাল ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

হাড়ছাড়া গরুর মাংস রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ৯৫০ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল এক কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

শাহজাদপুরের মাংস বিক্রেতা কবির মিয়া জানান, শবেবরাতের পর থেকেই বাজারে গরুর মাংসের দাম একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে হাড়সহ গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে তা ৮২০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে হাড়ছাড়া মাংস প্রতি কেজি ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের সময় তা আরো বেড়ে যেতে পারে।

মাংসের পাশাপাশি নাগালের বাইরে রয়েছে মাছও। বাজারে ছোট থেকে বড় প্রায় সব মাছের দামই চড়া। চাষের পাঙ্গাশ, কৈ ও তেলাপিয়া কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল।

বড় আকারের চিংড়ি প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা, শোল মাছ ৮০০, ভেদা মাছ ৮০০ এবং রুই মাছ ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে চাষের পাবদা, শিং ও কাতলা মাছের দাম খুব একটা বাড়েনি। এগুলো কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে সবজির দাম। রোজার শুরুতে কাঁচাবাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া ছিল। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজিই হাতের নাগালে এসেছে। কোনো কোনো সবজির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। রোজার শুরুতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া লেবু এখন পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

এছাড়া শসা, বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম কেজিতে অন্তত ২০ টাকা করে কমেছে। গতকাল বাজারে এক কেজি শসা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ এবং কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষের দিকে হলেও সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল কারওয়ান বাজারে টমেটো কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০, শিমের বিচি ৭০ থেকে ১০০ ও শিম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

দেশী পেঁয়াজ ও আলুর দামও কিছুটা কমেছে, যা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর। আলু কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রোজার শুরুতে সবজির দাম খুব চড়া ছিল। বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনতে হতো। এখন দাম অনেকটাই কমে এসেছে। ঈদের সময়ও সবজির দাম খুব একটা বাড়বে না বলেই মনে হয়।’

অন্যদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে আরো কমেছে ডিমের দাম। কয়েক মাস আগেও এক ডজন লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো।

গত সপ্তাহে এক ডজন লাল ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল দাম আরো ১০ টাকা কমে ১০০ টাকায় নেমেছে। সাদা ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায় এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা ডজনে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর