মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল ইতিহাসে বিরল ঘটনা : ব্রাজিলে এক ম্যাচে ২৩ লাল কার্ড! (ভিডিও সহ)

🗓 মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

👁️ ১১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বিরল ও অবিশ্বাস্য এক ঘটনার সাক্ষী থাকল ক্যাম্পোনাতো মিনেইরোর ফাইনাল।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ক্রুজেইরো ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর মধ্যকার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ হাতাহাতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে শেষ পর্যন্ত ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখাতে হয়।

এর মধ্যে ক্রুজেইরোর ১২ জন এবং অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড় রয়েছেন।

বেলো হরিজন্তে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কাইও জর্হের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ক্রুজেইরো।

সাবেক ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ তিতের অধীনে দলটি ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মিনাস জেরাইস রাজ্যের চ্যাম্পিয়ন হয়।

তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সংঘটিত সহিংসতা পুরো আনন্দঘন পরিবেশকে ম্লান করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মী ও মিলিটারি পুলিশকে মাঠে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর গোলরক্ষক এভারসন ক্রিস্টিয়ানকে মাটিতে ঠেলে দেন এবং ক্রুজেইরোর এই মিডফিল্ডারের বুকের ওপর হাঁটু রাখেন।

লুজ বলের পেছনে দৌড়ানোর সময় এই সংঘর্ষ ঘটে।

সঙ্গে সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানের সতীর্থরা এভারসনের দিকে ধেয়ে যান এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে গোলপোস্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

এরপর দুই দলের আরো খেলোয়াড় এতে জড়িয়ে পড়েন। নিরাপত্তাকর্মীরা খেলোয়াড়দের আলাদা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ম্যাচ চলাকালীন রেফারি মাতেউস ডেলগাদো কান্দানকান কোনো লাল কার্ড দেখাননি।

তবে ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের কারণে মাঠে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড দেখানো সম্ভব না হওয়ায় পরে ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়।

ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পান, যার মধ্যে গোলদাতা কাইও জর্হেও রয়েছেন।

অন্যদিকে অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে সাবেক অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের ডিফেন্ডার রেনান লোদি এবং ব্রাজিলের তারকা ফরওয়ার্ড হাল্কও রয়েছেন।সিনিয়র ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ডটি বর্তমানে আর্জেন্টিনার পঞ্চম স্তরের লিগে অ্যাথলেটিকো ক্লেইপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের ম্যাচে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সব মিলিয়ে ৩৬ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। রেফারি তার প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে ‘হাতাহাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ফরওয়ার্ড হাল্ক বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা এমন উদাহরণ স্থাপন করতে পারি না, কারণ এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিশ্বে পড়ে। আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি এবং ক্লাবের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আছে।’

ক্রুজেইরোর কোচ তিতে বলেন, ‘আমি ক্রুজেইরো সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাই। আমার সক্ষমতায় হয়তো ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু সমর্থক ও কাজের প্রতি ভালোবাসা ও সততার কোনো অভাব কখনও ছিল না।’

এ ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত ব্রাজিলীয় ফুটবল ফেডারেশন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

চলতি মৌসুমে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে দুই দলের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। চার ম্যাচ শেষে কোনো জয় পায়নি তারা। ক্রুজেইরো অবস্থান করছে ১৭তম স্থানে, আর অ্যাথলেটিকো মিনেইরো রয়েছে ১৯তম স্থানে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

অর্জুনের পর আবার প্রেম মালাইকার

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর