নাজিম উদ্দিন পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে অন্তত ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় এলাকাবাসী মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন।
সড়কগুলোতে গর্ত, ধুলা ও কাদা জমে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা দৈনন্দিন যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গরমে ধুলা, বৃষ্টিতে কাদা ছোট ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিদিন ঝুঁকিতে থাকে। অবিলম্বে সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হবে।
টইটং ইউনিয়নবাসীর পক্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জেডএম মোসলেম উদ্দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এ সড়কগুলো ধাপে ধাপে নির্মাণ ও মেরামতের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ২৪৯ কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের অন্তর্ভুক্ত পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
এসব সড়ক দ্রুত নির্মাণ ও মেরামত করা হলে এলাকাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবেদনে উল্লেখিত সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে,
টইটং আহলিয়া বালিকা মাদ্রাসা হতে কাছারী পাহাড় জামে সড়ক (২ কিমি, এইচবিবি), টইটং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক (২ কি.মি কার্পেটিং), বনকানন মাদ্রাসার মাঠের উত্তর পাশ থেকে আবদুল গফুরের বাড়ি হয়ে ছনখোলার জুম বাইতুশ সালাম মসজিদ পর্যন্ত সড়ক (৩ কি.মি এইচবিবি),
কাছারী পাহাড় ওয়াকফ এস্টেট জামে মসজিদ থেকে পুঁইছড়ি রেঞ্জ অফিস সড়ক (৪ কি.মি এইচবিবি), সোনাইছড়ি মাঝের পাড়া থেকে নতুন পাড়া সেলিমের দোকান পর্যন্ত রমিজ পাড়া সড়ক (৩ কি.মি এইচবিবি),
এবিসি সড়ক থেকে নতুন পাড়া মৌলভী পাড়া সড়ক লেইনের শিরা পর্যন্ত (৪ কি.মি এইচবিবি), মাঝের পাড়া থেকে মৌলানা মোশারফ আলী দরগাঁহ হয়ে জানআলী মুরা নূরানী মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়ক (প্রায় ২.৫ কি.মি এইচবিবি), কাজী মাহমুদুল হকের মার্কেট থেকে শাহাদাতের বাড়ি পর্যন্ত হিরাবনিয়া পাড়া সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি),
রমিজ পাড়া ওসমানের দোকান থেকে খলিল চৌকিদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক (৩ কি.মি এইচবিবি), জাকের হোছেনের বাড়ি থেকে চর পাড়া মনজুরের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি), কইড়ার পাড়া জামে মসজিদ থেকে এসএম আবুল কাশেম সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি), বটতলী স্কুল মাঠ থেকে এবিসি সড়ক পর্যন্ত হাবিব পাড়া সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি),
বটতলী স্কুল মাঠ থেকে মাহমুদুল করিমের দোকান পর্যন্ত মালগাড়া সড়ক (১ কি.মি এইচবিবি), কাটাপাহাড় মনজুরের দোকান থেকে নজির আহমদের বাড়ি পর্যন্ত চৌকিদার পাড়া সড়ক (১ কি.মি এইচবিবি), রাসেলের বাড়ি থেকে তিন রাস্তার মাথা পর্যন্ত চেপ্টা মুরা সড়ক (১ কি.মি এইচবিবি),
টইটং বাজার থেকে নূরানীগঞ্জ মাঠ পর্যন্ত ফজুর মুরা সড়ক (৩ কি.মি কার্পেটিং) এবং সামশুল আলমের বাড়ি থেকে জাকের উল্লাহর বাড়ি পর্যন্ত মৌলভী হাসানের জুম সড়ক (২ কি.মি, এইচবিবি)।
এছাড়া পেন্ডার পাড়া-কাদির পাড়া সড়ক (২ কি.মি কার্পেটিং), ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের ধনিয়াকাটা-মৌলভী বাজার-ভেলুয়া পাড়া সড়ক (৩ কি.মি এইচবিবি), ৫নং ওয়ার্ডের টইটং বনকানন (মৌঃ হাজি মোজাহেরুল) সড়ক (২ কি.মি আরসিসি), শের আলী মাস্টার পাড়া থেকে আরব শাহ বাজার জেসি সড়ক (২ কি.মি কার্পেটিং),
টইটং বাজার থেকে ফরেস্ট অফিস রোড (২ কি.মি কার্পেটিং), টইটং সোনাইছড়ি প্রাইমারি স্কুল সড়ক যা আবদুল্লাহ পাড়া হয়ে লাইনের শিরা পর্যন্ত গেছে (৩ কি.মি এইচবিবি), হাজী বাজার ফরেস্ট অফিস ভায়া কবরস্থান সড়ক (৪ কি.মি, কার্পেটিং), পশ্চিম টইটং আবদুল হাকিম সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি),
মৌলভী বাজার ভায়া বাবার ড্যাম লালজান পাড়া ব্রিজ সড়ক (প্রায় ২.৫ কি.মি এইচবিবি), বনকানন বাজার থেকে মধুখালী সড়ক (৩ কি.মি এইচবিবি), ধনিয়াকাটা বটতলা থেকে আবাদী ঘোনা সড়ক (৪ কি.মি এইচবিবি), বটতলা শফিকীয়া মাদ্রাসা সড়ক (৪ কি.মি এইচবিবি),
পশ্চিম টইটং নুরুউল্লাহর দোকান থেকে মিত্যান্তঘোনা সড়ক (৩ কি.মি কার্পেটিং), শের আলী মাস্টার থেকে লালজান পাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ওয়াপদা সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি),
আহমদ কবিরের বাড়ি থেকে খলিল সর্দারের বাড়ি পর্যন্ত কেরুন ছড়ি সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি), গুদিকাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চেপ্টা মুরা জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি),
ঢালার মুখ জামে মসজিদ থেকে লেইনের শিরা পর্যন্ত সড়ক (৪ কি.মি এইচবিবি) এবং কেরুন ছড়ি কবরস্থান থেকে মোজাফফরের বাড়ি পর্যন্ত কেরুন ছড়ি জামে মসজিদ সড়ক (২ কি.মি এইচবিবি) উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
ইউপি সদস্য কাইছার মুহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, মৌলভী বাজার- ভেলুয়ার পাড়া সড়কটি জনগুরুত্বপুর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে উন্নায়নের ছোঁয়া লাগেনি। মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইউপি সদস্য রুজিনা বেগম বলেন, কাদীর পাড়া সড়কটি এখানকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। আগে কিছু অংশে ইট ছিল। এখন পুরো সড়ক কাঁচা। যুগযুগ ধরে অবহেলিত এ সড়কটি। বর্ষায় হাঁটাও যাবেনা। এছাড়া টইটংয়ের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কগুলো দ্রুত নির্মাণ ও মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়বে স্থানীয়রা।
আবেদনকারী জেডএম মোসলেম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টইটং ইউনিয়নের বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিগত সময়ে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম নিজের কিছু ওয়ার্ডে সংক্ষিপ্ত ক্ষেত্রে কিছু রাস্তা সংস্কার করেছেন।
তবে বাকি ওয়ার্ডগুলোতে তেমন কার্যকর কাজ করেনি। তাই আমাদের নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বরাবর সড়ক মেরামত করার জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এই সড়কগুলো উন্নয়ন করা হলে টইটং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে।
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য এই রাস্তা উন্নয়নের উদ্যোগ নিবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখাগেছে, বেশিরভাগ সড়ক নাজুক অবস্থায়। ছোট বড় অসংখ্য গর্ত, কোথাও ইট উঠে গিয়ে কাঁচা সড়কে পরিনত হয়েছে। সড়কের কিছু অংশে ইট বিছানো হলেও বেশিরভাগ অংশ কাঁচা। একাধিক সড়কে গাড়ি চলাচল থমকে গেছে। কয়েকটি সড়ক পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টসাধ্য। তবে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের একটাই দাবি রাস্তাগুলো যেন এবার সংস্কার করা হয়।
চৌকিদার পাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম বলেন, ২-৩ হাজার মানুষের চলাচল রাস্তা চৌকিদার পাড়া সড়কটি। সংস্কারের আওতায় আনা হোক সড়কটি। কইডা পাড়ার বাসিন্দা শহর আলী বলেন,এস এম আবুল কাসেম সড়কটি যেন মরণফাঁদ। সড়কে গর্ত আর গর্ত। পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায়না। জোর দাবি করছি সড়কটি যেন এইচবিবি দ্বারা উন্নায়ন করা হয়।














