মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামুতে পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বাড়াতে ৪ কি:মি: সড়কে রোপন হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু গাছের চারা

🗓 মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৬ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১৬ বার দেখা হয়েছে

সোয়েব সাঈদ, রামু :: রেলস্টেশন সংলগ্ন ৪ কিলোমিটার সড়কে রোপন করা হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু গাছের চারা। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে পুরো রেল স্টেশনের দৃশ্যপট। আকর্ষণ বাড়াবে দর্শনার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমিদের। পর্যটন সমৃদ্ধ রামুতে এনে দেবে নতুন মাত্রা।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, শোভাবর্ধন ও সড়ককে দৃষ্টিনন্দন করার লক্ষ্যে রামু রেলস্টেশনের পাশে ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত এবং এসএসসি ২০০২ ব্যাচের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সামাজিক সংগঠন মৈত্রী’০২।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রামু বাইপাস থেকে রামু রেলস্টেশন সড়ক ও আন্ডারপাস হয়ে স্টেশন চত্বর পর্যন্ত এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উদ্বোধন করেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রামু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম।

বৃক্ষরোপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রামু রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আতিকুল ইসলাম। এসময় মৈত্রী-০২-এর সভাপতি নুরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন লাভলু সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে রামু বাইপাস থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ও স্টেশন চত্বরে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও জারুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির শোভাবর্ধক গাছের চারা রোপণ করা হয়। দীর্ঘ এ সড়ককে সবুজ, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রামু কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, একটি এলাকার সৌন্দর্যও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রামু রেলস্টেশন সড়কজুড়ে শোভাবর্ধক গাছ রোপণের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে সড়কটি রামুর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধকের বক্তব্যে ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, এগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

রামু বাইপাস থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত সড়কজুড়ে এমন পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্যও বাড়াবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রামু রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আতিকুল ইসলাম বলেন, রেলস্টেশন ও এর আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোপণ করা গাছগুলো বড় হলে পুরো সড়ক ও স্টেশন এলাকার পরিবেশ আরও মনোরম হয়ে উঠবে। এ ধরনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মৈত্রী-০২-এর সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, নানা সামাজিক কাজের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও রামুর সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যেই মৈত্রী-০২ দীর্ঘমেয়াদি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রামু রেলস্টেশন সড়ককে সবুজ ও নান্দনিক করে তুলতে ৪ কিলোমিটারজুড়ে শোভাবর্ধক গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তিনি জানান- মৈত্রী’০২ এর পক্ষ থেকে গত ৩ আগস্ট থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রামু সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক স্কুল-মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং ধমীয় প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ফলজ-বনজ, ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে রামু প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সোয়েব সাঈদ, দৈনিক কালের কন্ঠের রামু প্রতিনিধি সওকত ইসলাম, সাংবাদিক আনিস নাঈম, টেলিগ্রাম নিউজ এর রামু প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং মৈত্রী-০২-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর