রবিবার ৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐশ্বরিয়াকে ঘিরে হঠাৎ উন্মাদনা

🗓 রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

👁️ ৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ১৯৯৪ সালের ১৯ নভেম্বর। দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটির বিনোদনকেন্দ্রে বসেছিল বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার ৪৪তম আসর। বিশ্বের ৮৭টি দেশ থেকে অংশ নেওয়া ৮৭ প্রতিযোগীর মধ্যে শুরু থেকেই আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন ২১ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী ঐশ্বরিয়া রাই। সেই মঞ্চেই তার মাথায় ওঠে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট।

স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী ঐশ্বরিয়া প্রতিযোগিতার শুরুতেই ছিলেন অন্যতম আলোচিত প্রতিযোগী। নির্বাচিত হন আলোকচিত্রীদের পছন্দের সেরা প্রতিযোগী হিসেবে। দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষেরও মন জয় করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিচারকদের ভোটেও এগিয়ে গিয়ে বিশ্বসুন্দরীর খেতাব অর্জন করেন।

সেই মুকুটজয়ের ৩২ বছর পরও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও বিনোদন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি যে আগ্রহ তৈরি করে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ প্যারিস ফ্যাশন উইক।

গত মাসের শেষে লরিয়াল প্যারিসের ‘লে দেফিলে’তে কালো ভেলভেটের নাটকীয় পোশাক, ক্রিস্টালখচিত কেপ, মাথায় টায়ারা আর নতুন বারগান্ডি-লাল চুলে র‍্যাম্পে হাঁটেন ঐশ্বরিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন কেন্ডাল জেনার, সেলিন দিওঁ, ভায়োলা ডেভিস, ইভা লঙ্গোরিয়া, সিমোন অ্যাশলিসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখেরা।

অসংখ্য তারকা, মডেল ও আন্তর্জাতিক পরিচিত মুখের ভিড়েও ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি তাই আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২১ বছর বয়সে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের যে অধ্যায় শুরু হয়েছিল, তিন দশকের বেশি সময় পরও তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি যে আগ্রহ তৈরি করে, প্যারিসের সাম্প্রতিক মঞ্চ যেন তারই আরেকটি উদাহরণ।

১৯৯৪ সালের এই আয়োজন ছিল সান সিটিতে সান ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশ্বসুন্দরী উৎসব। প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর নেতৃত্বে ছিলেন এরিক মরলি। বিচারকদের মধ্যে ছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলার মেয়ে জিনজি ম্যান্ডেলা হ্লংওয়ানে, অভিনেতা টনি লিয়ং কা-ফাই, মডেল এজেন্ট নির্বাহী আইলিন ফোর্ড, অভিনেতা রন মোস, অভিনেত্রী ক্যাথরিন কেলি ল্যাং, আলোকচিত্রী লর্ড প্যাট্রিক লিচফিল্ড, শিল্পী, নকশাবিদ ও মডেল মার্শা রে র‍্যাটক্লিফ, অভিনেতা আন্দ্রেস গার্সিয়া, অভিনেতা চার্লস ড্যান্স এবং আন্তর্জাতিক সুপারমডেল ইমান।

প্রতিযোগিতার উপস্থাপনায় ছিলেন রিচার্ড স্টেইনমেটজ, সুয়ান ব্রাউন ও ব্রনসন পিঞ্চট। মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন জনি ক্লেগ, ইভন চাকা চাকা, ডেভিড আব্বাতে এবং লেডিস্মিথ ব্ল্যাক মামবাজো।

ঐশ্বরিয়ার জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সেরার স্বীকৃতিও যায় ভারতের ঘরে। আফ্রিকা অঞ্চলের বিজয়ী হন দক্ষিণ আফ্রিকার বাসেতসানে জুলিয়া মাকগালেমেলে। আমেরিকা অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার ইরেনে এস্তের ফেরেইরা ইজকিয়েরদো, ক্যারিবীয় অঞ্চলে কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের আনিতা লিলি বুশ এবং ইউরোপে ক্রোয়েশিয়ার ব্রাঙ্কা বেবিচ জয়ী হন।

 

 

চূড়ান্ত ফলে প্রথম রানারআপ হন দক্ষিণ আফ্রিকার বাসেতসানে জুলিয়া মাকগালেমেলে। দ্বিতীয় রানারআপ ভেনেজুয়েলার ইরেনে এস্তের ফেরেইরা ইজকিয়েরদো, তৃতীয় রানারআপ জিম্বাবুয়ের অ্যাঞ্জেলিন মুসাসিওয়া এবং চতুর্থ রানারআপ ক্রোয়েশিয়ার ব্রাঙ্কা বেবিচ।

সেরা ১০-এ ছিলেন বেলজিয়ামের ইলসে দে মেউলেমেস্টার, গ্রিসের ইভানজেলিয়া আদাম, মালয়েশিয়ার রহিমা ইয়ায়াহ, ফিলিপাইনের ক্যারোলিন সুবিজানো এবং যুক্তরাজ্যের মেলানি আবদুন।

সেই প্রতিযোগিতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্বসুন্দরীর ৮৭ প্রতিযোগীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। প্রতিযোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দেশটির সৌন্দর্য ও মানুষের আতিথেয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিযোগীদের শুভকামনা জানান।

ম্যান্ডেলা বলেন, ৮০টির বেশি দেশ থেকে আসা তরুণীদের দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের দেশটি ঘুরে দেখার সুযোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। বিদেশ থেকে আসা প্রতিযোগীরা যেন সুখস্মৃতি নিয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ম্যান্ডেলা।

১৯৯৪ সালের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার আয় তিনটি দাতব্য উদ্যোগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো অপারেশন হাঙ্গার, এইডস আক্রান্ত শিশুদের সহায়তা এবং ভ্যারাইটি ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের লাইফলাইন কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন শিশুদের সহায়তা করা হতো।

 

 

সে সময় ভ্যারাইটি ক্লাব গ্রেট ব্রিটেনের প্রধান বার্কার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন জুলিয়া মরলি এবং এরিক মরলি ছিলেন আন্তর্জাতিক চেয়ারম্যানের সাবেক দায়িত্বে। প্রতিযোগিতার আগে মরলি দম্পতি প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। পরে ম্যান্ডেলা প্রতিযোগিতার আয় দাতব্য কাজে ভাগ করে দেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বসুন্দরীর সেই মঞ্চে ৮৭ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে বিজয়ী হয়েছিলেন ভারতের ঐশ্বরিয়া রাই। ২১ বছর বয়সে পাওয়া সেই মুকুটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় ১৯৯৪ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা, নেলসন ম্যান্ডেলা এবং একটি পরিবর্তনশীল সময়ের স্মৃতিও। আর সেই মুকুটজয়ের ৩২ বছর পরও বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার সেই অধ্যায় ফিরে আসে আলোচনায়।

এই বিভাগ এর আরো খবর

ঐশ্বরিয়াকে ঘিরে হঠাৎ উন্মাদনা

রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

কমছে না মূল্যস্ফীতি

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

হার্ডলাইনে বিএনপি

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর