কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজারের খুরুশকুলে মন্দিরের পুরোহিত নয়ন সাধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী অঞ্জনা শীল বাদী হয়ে ২৪ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এ মামলা করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ২৫ এপ্রিল শনিবার সকালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ও স্থানীয় শিব-কালী মন্দির পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তারা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরে তারা মামলার অগ্রগতি জানতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ সময় সংগঠনের নেতারা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপংকর বড়ুয়া পিন্টু, সহ-সভাপতি রাজবিহারী দাশ, যুগ্ম সম্পাদক ডা. পরিমল কান্তি দাশ, স্বপন গুহ, চঞ্চল দাশগুপ্ত, আদিবাসী নেতা মংথেলা, অ্যাডভোকেট সুপাত্ত পাল চৌধুরী, টিটু দাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার একটি পাহাড়ি স্থান থেকে পুরোহিত নয়ন দাশের ঝুলন্ত ও আংশিক দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি স্থানীয় পুলিশ্যারঘোনা শিব-কালী মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। তাঁর স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।
অন্যদিকে, মন্দিরের এক সেবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
তিনি বলেন, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।













