নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার মানুষের প্রধান নৌ-যোগাযোগের অন্যতম ভরসা “ST Nijhum Dwip” সী-ট্রাক হাতিয়া রুটে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, হাতিয়ার সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে চলাচলরত সী-ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে এবং বিকল্প জলযান আনার উদ্যোগ চলমান।
গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ কুতুবদিয়ার মগনামা নৌরুটে আনুষ্ঠানিকভাবে সী-ট্রাক চলাচলের উদ্বোধন করা হয়। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ-উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সী-ট্রাক নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
দ্বীপটির প্রায় দুই লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে “ST Nijhum Dwip” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। প্রতিদিন যাত্রী, ব্যবসায়ী, রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনে সী-ট্রাকটি ছিল অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগরে বড় নৌযান হওয়ায় এটি তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসির একটি দাপ্তরিক পত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই নথিতে “যেখানে যে অবস্থায় আছে” ভিত্তিতে “ST Nijhum Dwip/ST Kutubdia” সী-ট্রাক বিক্রির প্রক্রিয়া শুরুর উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ এবং কয়েকটি দরপত্র বিক্রির তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, চলমান সী-ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুতুবদিয়া-মগনামা রুটে চলাচলকারী “ST Nijhum Dwip” হাতিয়া রুটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবর্তে কুতুবদিয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট ও পুরোনো একটি জলযান দেওয়ার আলোচনা চলছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। তাদের মতে, এমন জলযান বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সমুদ্রে নিরাপদ চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। সামনে ঈদুল আজহা ও বর্ষা মৌসুম ঘিরে যাতায়াত সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম, জিল্লু ও মইনুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াতের বড় অংশই বর্তমানে এই সী-ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য ও বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কমার্শিয়াল)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঈদুল আজহার আগে কুতুবদিয়ার একমাত্র কার্যকর সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপবাসী। একই সঙ্গে চলমান টেন্ডার বা স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাতিল করে “ST Nijhum Dwip” কুতুবদিয়া-মগনামা রুটে বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান। তিনি বলেন, “আমাদের কুতুবদিয়া যেন অভিভাবকহীন। আমরা কিছু পেলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারি না।”
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুতুবদিয়ার সন্তান ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কমার্শিয়াল) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। টেন্ডারে ‘ST Nijhum Dwip/Sentmartin’ উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন জাহাজটি আমাদের হাতে এলে তখন বর্তমান ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হবে। নতুন জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার আশা করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়ার সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, “স্যার ঘুমাচ্ছেন।” এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।













