বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ার সী-ট্রাক হাতিয়ায় সরানোর চেষ্টা : ক্ষোভে দ্বীপবাসী

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

👁️ ৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

👁️ ৯ বার দেখা হয়েছে

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া :: ‎কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার মানুষের প্রধান নৌ-যোগাযোগের অন্যতম ভরসা “ST Nijhum Dwip” সী-ট্রাক হাতিয়া রুটে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাতিয়ার সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কুতুবদিয়া-মগনামা নৌরুটে চলাচলরত সী-ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে এবং বিকল্প জলযান আনার উদ্যোগ চলমান।

‎গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ কুতুবদিয়ার মগনামা নৌরুটে আনুষ্ঠানিকভাবে সী-ট্রাক চলাচলের উদ্বোধন করা হয়। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ-উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সী-ট্রাক নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

‎দ্বীপটির প্রায় দুই লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে “ST Nijhum Dwip” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। প্রতিদিন যাত্রী, ব্যবসায়ী, রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনে সী-ট্রাকটি ছিল অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগরে বড় নৌযান হওয়ায় এটি তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

‎সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসির একটি দাপ্তরিক পত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই নথিতে “যেখানে যে অবস্থায় আছে” ভিত্তিতে “ST Nijhum Dwip/ST Kutubdia” সী-ট্রাক বিক্রির প্রক্রিয়া শুরুর উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ এবং কয়েকটি দরপত্র বিক্রির তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, চলমান সী-ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুতুবদিয়া-মগনামা রুটে চলাচলকারী “ST Nijhum Dwip” হাতিয়া রুটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবর্তে কুতুবদিয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট ও পুরোনো একটি জলযান দেওয়ার আলোচনা চলছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। তাদের মতে, এমন জলযান বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সমুদ্রে নিরাপদ চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। সামনে ঈদুল আজহা ও বর্ষা মৌসুম ঘিরে যাতায়াত সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম, জিল্লু ও মইনুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াতের বড় অংশই বর্তমানে এই সী-ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য ও বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কমার্শিয়াল)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

‎ঈদুল আজহার আগে কুতুবদিয়ার একমাত্র কার্যকর সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপবাসী। একই সঙ্গে চলমান টেন্ডার বা স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাতিল করে “ST Nijhum Dwip” কুতুবদিয়া-মগনামা রুটে বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

‎বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান। তিনি বলেন, “আমাদের কুতুবদিয়া যেন অভিভাবকহীন। আমরা কিছু পেলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারি না।”

‎এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুতুবদিয়ার সন্তান ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

‎এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কমার্শিয়াল) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। টেন্ডারে ‘ST Nijhum Dwip/Sentmartin’ উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন জাহাজটি আমাদের হাতে এলে তখন বর্তমান ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হবে। নতুন জাহাজ নির্মাণাধীন রয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার আশা করছি।”

‎অভিযোগের বিষয়ে হাতিয়ার সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, “স্যার ঘুমাচ্ছেন।” এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর