কক্সবাংলা ডটকম(১৬ মে) :: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।
এর ফলে দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার।
শনিবার সামষ্টিক অর্থনীতির ত্রৈমাসিক অবস্থার মূল্যায়ন নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি।
একই সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার।
অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গতি-প্রকৃতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিমাপে অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক চালু করেছে ঢাকা চেম্বার।
পরিস্থিতি বুঝে নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থান সূচকে স্কোর শূন্য দশমিক ৫০।
অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটসহ অনিশ্চিত শুল্ক নীতির কারণে উৎপাদন খাতের কার্যক্রম খুবই দুর্বল। পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থবিরতায় সার্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন কমেছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির অভাবে সেবাখাতের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, বিনিয়োগ মন্থরতা, জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক ধরণের চাপ বিরাজ করছে।
অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সূচকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন সেমিনারে অংশ নেয়া অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। নীতিগত সংশোধন করতে হলে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, ‘এটা সত্য যে, অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি যদি আমরা না বুঝি তাহলে এটাকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারব না।
আমাদের বর্তমান অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে কী- উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ, ভঙ্গুর ব্যাংকিং সিস্টেম।’
পরিস্থিতি উন্নয়নে পণ্যের দাম স্থিতিশীলসহ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এসএমই উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও অবকাঠামো সুবিধা এবং বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুপারিশ করা হয়।
পাশাপাশি ভ্যাট হার কমানো ও লাইসেন্সিং সেবায় হয়রানি কমানোর ওপর জোর দেন বক্তারা।













