শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হলিউডে দ্বিতীয় দ্রুততম আয়ের ছবি ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৫২ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৫২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। খবর ভ্যারাইটি।

সনি ও মার্ভেলের এ সুপারহিরো চলচ্চিত্রে টম হল্যান্ড আবারো স্পাইডার-ম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। মাত্র ছয় দিনে এক বিলিয়ন ডলার আয় করে ছবিটি ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম আয়ের চলচ্চিত্র হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এর চেয়ে দ্রুত এই মাইলফলকে পৌঁছেছিল ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যা মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বব্যাপী ১২০ কোটি ডলার আয় করেছিল।

উত্তর আমেরিকায় মুক্তির চার দিনেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ৪০ কোটি লাখ ডলার আয় করে, যা দেশটির বক্স অফিসে সবচেয়ে দ্রুত এ মাইলফলক অতিক্রমের নতুন রেকর্ড।

ছবিটি সোমবার একদিনেই ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোমবারের আয়ের রেকর্ডও গড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ সোমবার ৪ কোটি ডলার আয় করে রেকর্ড গড়েছিল। উত্তর আমেরিকার বাইরে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৬৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

টম হল্যান্ডের একক স্পাইডার-ম্যান সিরিজের চতুর্থ ছবি ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির শুরু থেকেই সব ধরনের বক্স অফিস পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে এটি উত্তর আমেরিকায় ৩৬ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় নিয়ে যাত্রা করে।

এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয় এবং বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়েছে। পাশাপাশি ছবিটি ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে সর্বোচ্চ প্রিভিউ আয়ের রেকর্ড এবং মুক্তির প্রথম দিনেই ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় করে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী দিনের রেকর্ডও দখল করেছে।

দর্শকদের দারুণ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুতই ছবিটির আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি চলচ্চিত্র এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছে। নিয়মিত প্রদর্শন শেষ হওয়ার আগেই এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মার্ভেল স্টুডিওসের প্রেসিডেন্ট ও প্রযোজক কেভিন ফাইগি ভ্যারাইটিকে বলেন, “আমি ভাবিনি ‘এন্ডগেম’-এর (উত্তর আমেরিকার) রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে। কিন্তু মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম চলচ্চিত্র সেটি ভেঙেছে—এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সোমবার সকালে এমন অবস্থানে নিজেদের দেখতে পাওয়া সত্যিই অভিভূত করার মতো অনুভূতি।”

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এর জন্যও ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর এই অসাধারণ সাফল্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ওই ছবিতে বিভিন্ন সুপারহিরো একসঙ্গে ফিরবেন এবং রবার্ট ডাউনি জুনিয়র এবার আয়রন ম্যান নয়, খলনায়ক ডক্টর ডুম চরিত্রে অভিনয় করবেন।

ফাইগির ভাষায়, ‘যখন একটি যৌথ ইউনিভার্স সফলভাবে কাজ করে, তখন এমন ফলই পাওয়া যায়।’

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এ বছর বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্লাবে যোগ দেয়া চতুর্থ চলচ্চিত্র। এর আগে এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ (১০০ কোটি ১০ লাখ ডলার), ‘মাইকেল’ (১০০ কোটি ১০ লাখ) এবং ‘টয় স্টোরি ৫’ (১০৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার)। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ৯১ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে এবং খুব শিগগিরই ২০২৬ সালের পঞ্চম বিলিয়ন ডলারের চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে।

এখনো আগস্ট মাস চলছে, কিন্তু ২০২৬ সালে এরই মধ্যে মহামারীর পর সবচেয়ে বেশি এক বিলিয়ন ডলার আয় করা চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছে হলিউড। ২০১৯ সালে রেকর্ডসংখ্যক নয়টি চলচ্চিত্র এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল। এরপর আর কোনো বছরে তিনটির বেশি চলচ্চিত্র এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি।

চলতি বছর হলিউডের বক্স অফিস আরো কয়েকটি বড় রেকর্ড গড়ার পথে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ‘দ্য ওডিসি’ যদি তাদের শক্তিশালী আয় ধরে রাখতে পারে, তাহলে কভিড মহামারীর পর দ্বিতীয়বারের মতো গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে উত্তর আমেরিকার টিকিট বিক্রি চার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মে থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত আয় হয়েছে ৩৫৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

এদিকে ‘ডৃন ৩’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এর মতো বড় বাজেটের ছবি এখনো মুক্তি বাকি থাকায়, শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার মোট বক্স অফিস আয় ১০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম এমন মাইলফলক অর্জিত হতে পারে। মহামারীর আগে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর