শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল

🗓 শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৫ বার দেখা হয়েছে

দীপন বিশ্বাস :: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কর্মীদের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইউএনএইচসিআরের মাল্টি-কান্ট্রি অফিসের কর্মকর্তারাও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার ক্যাম্প-৪, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন ও ক্যাম্প-১৮ পরিদর্শন করে। এ সময় তারা রোহিঙ্গাদের বসবাসের পরিবেশ, নিবন্ধন কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে সরেজমিনে ধারণা নেয়।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিনিয়র লেজিসলেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট নোয়েল ডানা। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দলটি ক্যাম্প-৪-এর এ-১ ব্লকসংলগ্ন ডেটা রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে পৌঁছায়।

সেখানে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের তথ্য নিবন্ধন, যাচাই ও সংরক্ষণের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়। ইউএনএইচসিআরের একজন কর্মকর্তা ম্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ ও প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

এরপর প্রতিনিধিদলটি ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের এফ-১ ব্লকসংলগ্ন এলাকায় রোহিঙ্গাদের পুরোনো ও নতুন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে। সেখানে তারা শরণার্থীদের বসবাসের পরিবেশ, দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

দুপুরে ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের বি-১ ব্লকে ইউএনএইচসিআর পরিচালিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তাঁরা। সেখানে রোহিঙ্গাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।

পরে ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের সি-৩ ব্লকে ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিরা। সেখানে প্রতিদিনের রোগী সংখ্যা, মাতৃ ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি কার্যক্রম, জরুরি চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।

বিকেলে প্রতিনিধিদলটি ক্যাম্প-১৮-এর এল-১৭/বি ব্লকে অবস্থিত রোহিঙ্গা কালচারাল মেমোরি সেন্টার (আরসিএমসি) পরিদর্শন করে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা, ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্মৃতি ও নিদর্শন ঘুরে দেখেন তাঁরা। আইওএম পরিচালিত কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সম্মানে রোহিঙ্গা শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকসংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রতিনিধিদলটি ক্যাম্প-১৮ ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পরে প্রতিনিধিদলটি অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে চলমান রোহিঙ্গা মানবিক সংকট, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি আবারও সামনে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও উঠে আসে।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন—প্রতিনিধি রায়ান ম্যাকেঞ্জির সিনিয়র লেজিসলেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট নোয়েল ডানা, প্রতিনিধি স্টেফানি বাইসের লেজিসলেটিভ ডিরেক্টর রবার্ট সার, প্রতিনিধি মার্লিন স্টুটজম্যানের লেজিসলেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট রায়ান কারেইরো, সিনেট রিপাবলিকান পলিসি কমিটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট টরি কক্স, প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিনের লেজিসলেটিভ ডিরেক্টর সারা জ্যাকবস, সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি লেজিসলেটিভ এইড মাইশা হোসাইন এবং প্রতিনিধি ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্টের লেজিসলেটিভ ডিরেক্টর মার্শেল ব্রায়ান্ট।

তাদের সঙ্গে ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএনএইচসিআরের মাল্টি-কান্ট্রি অফিসের সিনিয়র এক্সটার্নাল রিলেশনস অফিসার ন্যান্সি জ্যাকসন, এক্সটার্নাল রিলেশনস অ্যাসোসিয়েট জেসি আইন্সলি এবং ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজার প্রতিনিধি ইফতেখার বায়েজীদ।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের এই ব্যাপক আগমন ‘রোহিঙ্গা ঢল’ নামে পরিচিত।

এরপর থেকে রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে বড় একক দাতা দেশ হিসেবে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও সংশ্লিষ্ট মানবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ২.১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে, যা মোট আন্তর্জাতিক অনুদানের অর্ধেকেরও বেশি।

 

 

 

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর