দীপন বিশ্বাস :: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়ে ইয়াছিন খান (২৫) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
একই ঘটনায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান (২৭) নামে আরও এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়াছিন খান ঢাকার বাসিন্দা। নিখোঁজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানও ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পানিতে ভেসে যাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ইয়াছিনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও লাইফগার্ড সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন ও ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পর্যটক সৈকতের একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসল করতে নামেন।
এ সময় প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে তারা বিপদে পড়েন। সহযাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত লাইফগার্ড কর্মীদের খবর দেন।
পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে ইয়াছিনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ইব্রাহিমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
লাইফগার্ড সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনাস্থলটি নন-লাইফগার্ড/ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। সেখানে লাল পতাকা টানানো ছিল এবং গোসল না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সতর্কতা উপেক্ষা করে পর্যটকেরা ওই এলাকায় সাগরে নামেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ইয়াছিন ও ইব্রাহিম প্রায় ১১০ জনের একটি বড় পর্যটক দলের সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।
দলটি শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল বিস্তা বে-তে অবস্থান করছিল। পর্যটক দলের অনেকেই ‘আই জেট কেপি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নিখোঁজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে উদ্ধারে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস, সি-সেফ লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ ও লাল পতাকা চিহ্নিত এলাকায় গোসল না করার জন্য পর্যটকদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করেন।
ফলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের পানিতে ডুবে মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। নিরাপদে গোসলের জন্য নির্ধারিত এলাকায় লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।













