নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রাজাখালী এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদ উল্লাহ।
শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালন, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং একটি পরিচিত পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে টৈইটং ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মো. জাহেদ উল্লাহ টৈইটং ইউনিয়নের টৈইটং বাজার পাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মরহুম মাস্টার নুরুল হক ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি টৈইটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শহিদ উল্লাহ বিএ-এর ছোট ভাই। শহিদ উল্লাহ বিএ টইটং ইউনিয়ন পরিষদের দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছিলেন।
শহিদ উল্লাহ বিএ-এর ছোট ভাই হিসেবে মো. জাহেদ উল্লাহর পরিবারের সঙ্গে টৈইটংয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে শুধু পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের কর্ম ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেও তিনি এলাকায় একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন।
মো. জাহেদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি রাজাখালী এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এলাকার মানুষের বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে পাশে থাকা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর একটি ব্যক্তি ইমেজ তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন শিক্ষক হিসেবে মো. জাহেদ উল্লাহর প্রতি এলাকার মানুষের একটি আলাদা আস্থা রয়েছে। তাঁর দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যও সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে মো. জাহেদ উল্লাহর ঘনিষ্ঠজনরা জানান, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি তিনি মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চান। ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে ঘিরে ইতোমধ্যে টৈইটং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের একটি অংশ একজন শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিকে স্থানীয় সরকারে নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে পারিবারিক পরিচিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়াত শহিদ উল্লাহ বিএ দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁর পরিবারের একটি পুরোনো সামাজিক ভিত্তি রয়েছে। সেই পরিবারের সদস্য হিসেবে মো. জাহেদ উল্লাহ নির্বাচনে এলে পারিবারিক পরিচিতির পাশাপাশি নিজের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পেশাগত পরিচিতিকে কাজে লাগাতে পারবেন বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকরা।
তবে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাব্য প্রার্থিতা হিসেবেই থাকছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, মো. জাহেদ উল্লাহ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে নামলে টৈইটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর পরিচিতি, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ব্যক্তি ইমেজ এবং প্রয়াত দুবারের চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ বিএ-এর পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় সব মিলিয়ে তাঁর প্রার্থিতা ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
টৈইটং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, যেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন না কেন, তিনি যেন এলাকার উন্নয়ন, মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
সবকিছু মিলিয়ে টৈইটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদ উল্লাহর নাম এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
মাস্টার মো. জাহেদ উল্লাহ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। টৈটং ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। সুযোগ পেলে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে টৈটং ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। একটি সুন্দর, আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন গড়াই আমার লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, টৈটং এর অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। পাশাপাশি যুবসমাজের কর্মসংস্থান, শিক্ষার প্রসার, মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।













