বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্তির পথে কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়ক

🗓 বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া :: একসময় পেকুয়া দক্ষিণ মগনামার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়ক। সময়ের পরিক্রমায় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন বিলুপ্তির পথে।

প্রায় দুই যুগ ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় সড়কটির পুরোনো ইটগুলো উঠে গেছে বহু বছর আগে। কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব নেই, কোথাও আবার দুপাশ ভেঙে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে।

অসংখ্য খানাখন্দ, কাদামাটি ও ভাঙা ইটে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়কটি ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির আর কোনো স্থায়ী সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি।

বছরের পর বছর অবহেলায় সড়কের ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর থাকা ইটগুলো ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বর্ষাকালে কাদামাটির সঙ্গে এসব ভাঙা ইট মিশে যাওয়ায় হাঁটাচলাও হয়ে পড়ে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আশ্বাসের বাণীতে পেরিয়ে গেছে দুই যুগ। এর মধ্যে ধীরে ধীরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, অনেক জায়গায় রাস্তার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসে কেটে গেছে বছরের পর বছর। কিন্তু বাস্তবে সড়কের উন্নয়ন হয়নি।

দক্ষিণ মগনামার কালারপাড়া, বেদেরবিল পাড়া, কোদাইল্যাদিয়া, কুমপাড়া, বগারপাড়া, রঙিখালের পূর্বকূলসহ অন্তত ১০টি পাড়ার হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন। এসব এলাকার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজসহ নানা প্রয়োজনে পেকুয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন।

কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ভাঙা রাস্তা, কাদা ও খানাখন্দ পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাদের। বর্ষাকালে তাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, এলাকার কৃষক ও লবণচাষিরাও সড়কটির বেহাল দশার কারণে বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে লবণ মৌসুমে মাঠ থেকে লবণ পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় চাষিদের। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অতিরিক্ত খরচ করে বিকল্প পথে লবণ পরিবহন করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় দক্ষিণ মগনামার মানুষকে পেকুয়া উপজেলা সদরে যেতে বিকল্প পথে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার বেশি ঘুরে আসতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগছে, অন্যদিকে বেড়ে যাচ্ছে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ।

স্কুলছাত্র রবিউল করিম বলেন, আমাদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক জায়গায় কাদা ও গর্ত থাকায় হাঁটতে কষ্ট হয়। বর্ষার সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

লবণচাষি হাকিম আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আগে লবণ পরিবহনের গাড়ি চলাচল করত। এখন রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে গাড়ি আসতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে লবণ পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরীফ নেওয়াজ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। অথচ দক্ষিণ মগনামার ৬, ৭, ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তার সমস্যা নয়, এটি এই এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তা আর চলতে দেওয়া যায় না।

শরীফ নেওয়াজ আরও বলেন, অতীতের মতো শুধু আশ্বাস দিয়ে জনগণকে অপেক্ষায় রাখতে চান না তিনি। সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয়ভাবে বিষয়টি তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে কিংবা দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে কাজী বাজার থেকে কাটাফাঁড়ী সড়কটি সংস্কারকে দক্ষিণ মগনামার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করব। সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

স্থানীয় বাসিন্দা শফি ও আলমগীর বলেন, এই রাস্তার দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। বছরের পর বছর ধরে রাস্তা সংস্কারের কথা শুনছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একসময় এই সড়ক দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত। এখন অনেক জায়গায় রাস্তার অস্তিত্বই নেই। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম বলেন, কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়কটি দক্ষিণ মগনামার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। এর কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও লবণচাষিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, একসময় দক্ষিণ মগনামার মানুষের জন্য এই সড়কটি ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়ন হয়নি। আগের চেয়ারম্যানের আমলে সড়কের ওপর যে ইটগুলো ছিল, সেগুলোও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু এই সড়কের ইট নয়, মগনামার অন্তত ২২টি সড়কের ইট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মগনামায় যেসব সড়ক অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের কাছেও অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই মগনামার অবহেলিত সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন করা হবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

কুতুবদিয়ার অদম্য মেধা শরিফুল

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিলুপ্তির পথে কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়ক

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে আটক হলো ২২ অপরাধী

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টৈইটংয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান জাহেদ উল্লাহ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চকরিয়াকে ট্রাইবেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে রামুর জয়

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর