কক্সবাংলা ডটকম(১৩ মার্চ) :: বছরের শুরুতেই পাওয়া গিয়েছিল যুদ্ধের আঁচ। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীকে পাকড়াও করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’।
সেই ঘটনা থিতু হতেই এ বার যুদ্ধ শুরু হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের উপরে একের পরে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েলি সেনা।
ইজ়রায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। পাল্টা আঘাত হানছে ইরানও। এর আগেও রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইজ়রায়েল-গাজ়ার যুদ্ধ দেখেছে গোটা বিশ্ব।
বিশ্বে যে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে,তাতে অনেক শক্তিধর রাষ্ট্রই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধকালীন আবহে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কোন দেশের সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। আমেরিকা, চিন নাকি রাশিয়া—বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর দিক থেকে এগিয়ে আছে কে? ভারতের জায়গায়ই বা কোথায় জানেন?
আমেরিকা
যুদ্ধ বিমানের সংখ্যায় বিশ্বে এগিয়ে আমেরিকা। বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, মেরিন কর্পস (Marine Corps) এবং আর্মি এভিয়েশন (Army Aviation) মিলিয়ে এখানে ১৩ হাজারেরও বেশি যুদ্ধ বিমান আছে। এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু বম্বার্স (bombers), ফাইটার জেট (fighter jets), জ্বালানি পরিবহণের জন্য আলাদা বিমান ও হাজারো হেলিকপ্টার। সক্রিয় সেনার সংখ্যা ১,৩৩,০৩০ জন।
রাশিয়া
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। সূত্রের খবর, রাশিয়ার সৈন্য সংখ্যা ৯ লক্ষের কাছাকাছি। নৌবাহিনীতে সামরিক জাহাজ রয়েছে ৬০৫টি। সাবমেরিন ৭০টি। যুদ্ধ বিমান আছে ৪২৯২টি । এই দেশে বৃহৎ আকারে রোটারি উইং কম্পোনেন্ট (rotary-wing component) আছে।
চিন
যুদ্ধ বিমানের সংখ্যা বাড়িয়েছে চিন। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে J-20 এবং J-35। যুদ্ধ বিমান রয়েছে ৩৩০৯টি। স্টিলথ ফাইটার জেট ( stealth fighter jets), হাইপারসনিক মিসাইল ( hypersonic missiles) এবং উন্নত সাবমেরিন নিয়ে অন্য দেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে চিন। চিনে রয়েছে DF-27A-র মতো হাইপারসনিক মিসাইল। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার অনুযায়ী, চিনে সামরিক সেনা রয়েছে ২০,৩৫,০০০ জন।
ভারত
অন্য দিকে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারত সশস্ত্র বাহিনীর দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশে সক্রিয় সেনার সংখ্যা ১,৪৩১,০০০ জন। ভারতে যুদ্ধ বিমানের সংখ্যা ২২২৯টি। অত্যাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র থাকার পাশাপাশি রয়েছে অগ্নি-৩, ব্রহ্মোস, রাফাল, তেজস এবং এস-৪০০-এর মতো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
সৌদি আরব
যুদ্ধ বিমানের সংখ্যা ৯১৭টি। সক্রিয় সেনা সংখ্যা মোট ৪,৫০,০০০ জন। সামরিক খাতে বিপুল অর্থ খরচ করে এই দেশ। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক বাহিনীর দিক থেকে সৌদি আরব রয়েছে পঞ্চম স্থানে। সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে F-35 স্টিলথ ফাইটারের জন্য আলোচনা হয়েছে সৌদি আরবের।
দক্ষিণ কোরিয়া
এই দেশে শক্তিশালী যুদ্ধ বিমান, বিশাল রোটারি-উইং প্ল্যাটফর্ম আছে। রয়েছে ১৫৯২টি যুদ্ধবিমান। তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে K2 ব্ল্যাক প্যান্থার ট্যাঙ্ক (K2 Black Panther tanks), K9 থান্ডার সেলফ-প্রপেলড হাউৎজার (K9 Thunder self-propelled howitzers) এবং আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার জেট (KF-21)। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় লক্ষাধিক রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে।
জাপান
১৪৪৩টি বিমান যুদ্ধ বিমান আছে জাপানের। এখানকার মেরিটাইম সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্স (JMSDF) বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। সাবমেরিনের দিক থেকেও এই দেশ অনেক এগিয়ে। দেশের মধ্যেই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরি করা হয়।
পাকিস্তান
পাকিস্থানে সেনা সংখ্যা ৬৬০,০০০ জন। এখানে রয়েছে ১৩৯৯টি যুদ্ধ বিমান। যার মধ্যে চিন থেকে নেওয়া J-10C এবং JF-17 ফাইটার জেটও আছে।
মিশর
১০৯৩টি যুদ্ধবিমান আছে মিশরে। আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আছে মিশরে। দেশে এফ-১৬ (F-16), রাফায়েল (Rafale) এবং মিগ-২৯ (MiG-29) মতো যুদ্ধ বিমান আছে। সশস্ত্র সেনাবাহিনী আছে ৩১০,০০০ জন।
তুরস্ক
১০৮৩ টি যুদ্ধ বিমান আছে তুরস্কে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দেশ নিজেই ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে। তুরস্ককে ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর দেশ হিসেবে ধরা হয়। দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা ৪৮১,০০০টি।














