শুক্রবার ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ মাসের নীরবতা ভেঙে টেকনাফ বন্দরে মিয়ানমারের কাট বোঝাই বোট

🗓 শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ :: দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে যেন থমকে ছিল কক্সবাজার ও রাখাইন রাজ্যের সাথে বাণিজ্যের প্রধান সংযোগস্থল টেকনাফ স্থলবন্দর।

ছিল না কোন বাণিজ্যিক বোটের ভিড়, তাই শ্রমিকদের ব্যস্ততাও ছিলো না।

সব মিলিয়ে নিস্তব্ধ ছিল এই বন্দরের ব্যস্ততম জনপদ।

অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে শুক্রবার ১লা মে দুপুরে মিয়ানমার থেকে কাঠ বোঝাই একটি বোট ভিড়তেই ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য,

স্বস্তির হাসি ফুটে বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মুখে।

জানা যায়, শুক্রবার সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের কাছে বোটটি আসার কথা জানা গেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, সকালে মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে ছেড়ে আসা বোটটি দুপুর দেড়টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছায়।

এতে ৫২০ পিস চম্পাফুল ও ৪৪৩ পিস গর্জনসহ মোট ৯৬৩ পিস কাঠ এসেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম চালান হওয়ায় বন্দরে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা—চলছে কাঠ খালাসের কাজ।

বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এই বোটটি শুধু কাঠ নয়, নিয়ে এসেছে নতুন আশার বার্তা।

ধীরে ধীরে পুরো কার্যক্রম আবার সচল হবে বলে আমরা আশা করছি।”

এ সময় স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্য সচল করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

বৈধ বাণিজ্য চালু থাকলে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াবে।”

দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরাও।

সিএন্ডএফ এজেন্ট এফআরবি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য অনেক প্রত্যাশার। পূর্ণাঙ্গভাবে আমদানি-রপ্তানি শুরু হলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”

বন্দর ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মিয়ানমার থেকে কাট বোঝাই বোট বন্দরে আসায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

আমরা আশা করছি, বন্দরে আমদানি রপ্তানি পুরোদমে চালু হলে সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

গত ১৪ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে দ্রুত বাণিজ্য চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।

সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেওয়ায় টেকনাফের সীমান্ত অর্থনীতিতে আবারও গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, দ্রুত নিয়মিত পণ্যবাহী নৌযান চলাচল শুরু হলে টেকনাফ স্থলবন্দর আবারও সচল হয়ে উঠবে এবং সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন গতি ফিরবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর