রবিবার ১৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ এপ্রিলে : বড় অংশ গেল পুরোনো দেনা পরিশোধে

🗓 রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

🗓 রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ মে) :: রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতি ও অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির চাপে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার।

তবে এ অর্থের বড় একটি অংশই ব্যয় হয়েছে আগের ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যয় নির্বাহে ধার করে পুরোনো ঋণ শোধের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার ৩৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এক মাসের ব্যবধানে এপ্রিলে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ হাজার কোটি টাকায়, যা প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আগের ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। ফলে নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেজারি বিলের সুদের হারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের তুলনায় শেষ সপ্তাহে ৯১ দিন, ১৮২ দিন ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

৯১ দিন মেয়াদি বিলের সুদ ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

একইভাবে ১৮২ দিন মেয়াদি বিলের সুদ ১০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের সুদ ১০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সরকারি উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যয়ের গতি বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ঋণ গ্রহণও বৃদ্ধি পায়। এপ্রিলে তার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে উচ্চ সুদ পাওয়ায় ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার চেয়ে সরকারকে অর্থায়নে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশে।

অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো সহজে নিশ্চিত মুনাফা পাচ্ছে। ফলে তারা নতুন উদ্যোক্তা বা উৎপাদনমুখী খাতে ঋণ বিতরণের চেয়ে সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি ঝুঁকছে। তিনি মনে করেন, সরকার চাইলে সাধারণ জনগণের কাছ থেকেও বেশি পরিমাণে ট্রেজারি বিল-বন্ডের অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূচি অনুযায়ী, এ সময়ে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ৩৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতি সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, পর্যাপ্ত রাজস্ব না থাকায় সরকারকে ঋণ নিয়ে ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে।

তবে অতিরিক্ত ঋণ ও উচ্চ সুদ মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্তি, কর ফাঁকি রোধ এবং অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিল-বন্ডের নিলাম আয়োজন করে থাকে। বর্তমানে শুধু ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ জনগণও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে স্থানীয় ঋণ ১২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর