দীপন বিশ্বাস :: কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুকে ‘হা হা’ রিয়াক্ট ও দেয়ালে লেখা ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে ছৈয়দা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) রাত এগারোটার প্রথম দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছৈয়দা এলাকার সাব্বির আহমদের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’ লেখা হয়।
এ নিয়ে এলাকায় পুলিশের নোটিস ও বাদী দিয়ে অভিযোগ করার পর শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের এক কর্মী দেয়াল লেখার বিষয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন।
ওই পোস্টে ‘হা হা’ রিয়াক্ট দেওয়া নিয়ে স্থানীয় এক যুবককে (নাম ইউনুস) ধরে সদস্যরা মারধর শুরু করেন।
তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার বন্ধু ও স্থানীয় এনজিওকর্মী এসএম ইমরানও মারধরের শিকার হন।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ইউনুসের মা ছৈয়দা বেগম; ছেলেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপরও জোরালোভাবে দৌড়ে ধাওয়া করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা উল্লেখ করেন।
প্রাণঘাতী মারধরের পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছৈয়দা বেগম নিজের শরীর দিয়ে ছেলেকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন।
ঘটনার সময় মারধরে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা-সমর্থক জড়িত ছিলেন—তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসেম সিকদার জিসান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদার, দক্ষিণ রাজাপালং শ্রমিক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার ও আরও অনেকে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে পরে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগপ্রাপ্তরা ওই রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ছৈয়দার কোনো হাতে আহত হননি; তার মৃত্যু স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তারা ।
উপজেলা বিএনপির একাংশের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে এমন অভিযোগ এসেছে; সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেয়া হলে তারা ঘটনার ব্যাপারে অজ্ঞাত থাকার কথা জানান এবং যাঁরা যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করেন।
উখিয়া থানার কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত শেষে রোববার সকালে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জানাজার পরে দাফন সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটিতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি ফেসবুক পোস্ট ও দেয়া রিয়াক্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর্যায়ে চলে যায়; সংঘর্ষে ছৈয়দা খাতুন আহত হন এবং পরে হসপিটালে মারা যান।
পুলিশ বর্তমানে একজনকে হেফাজতে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চালাচ্ছে।
ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান সড়ক অবরোধ করে।
পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাসে কয়েক ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।













