রোতাব চৌধূরী :: কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক চোরাচালান, চুরি-ছিনতাই, অপরাধ দমন, অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বক্তব্য রাখেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বর্তমানে নতুন ধরনের অপরাধ হিসেবে অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধের বিস্তার নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্র শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
এ সময় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।












