সরওয়ার কামাল,মহেশখালী :: কক্সবাজারের মহেশখালীর গোরকঘাটা নদীবন্দরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত ট্যারিফ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তি প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ট্যারিফ তফসিলের গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত বাদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে বিজ্ঞপ্তিটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখার স্মারক নং-১৫৫-এর মাধ্যমে নির্ধারিত ট্যারিফ তফসিলের ৩.০৩ উপধারায় পর্যটকবাহী নৌযান বা জাহাজে আরোহনকারী যাত্রীদের জন্য দেশি ও বিদেশি পর্যটকের ক্ষেত্রে পৃথক ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এ ট্যারিফ প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশি বা বিদেশি পর্যটক কি না—এটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং তিনি পর্যটকবাহী নৌযান বা জাহাজে আরোহনকারী যাত্রী কি না, সেটিও ওই উপধারার গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য শর্ত।
১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গোরকঘাটা নদীবন্দরের ইজারাদার কর্তৃক প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে ট্যারিফ তফসিলের এই গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি উল্লেখ না করে কেবল দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত ট্যারিফের হার তুলে ধরা হয়।
এতে বিজ্ঞপ্তিটি এমন ধারণা সৃষ্টি করে যে, গোরকঘাটা নদীবন্দর ব্যবহারকারী সব দেশি-বিদেশি পর্যটকের ক্ষেত্রেই ওই ট্যারিফ প্রযোজ্য হবে।
অথচ মূল ট্যারিফ তফসিলের ৩.০৩ উপধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ট্যারিফ পর্যটকবাহী নৌযান বা জাহাজে আরোহনকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ফলে তফসিলের একটি অপরিহার্য প্রয়োগগত শর্ত বাদ দিয়ে আংশিক বিধানকে পূর্ণাঙ্গ বিধান হিসেবে উপস্থাপন করায় ইজারাদারের বিজ্ঞপ্তিটি মূল ট্যারিফ তফসিলের যথাযথ প্রতিফলন ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে সাধারণ পর্যটক ও যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কাও দেখা দেয়।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে ওই বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তি দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ইজারাদার বিজ্ঞপ্তিটি অপসারণ করেন।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্যসম্বলিত বিজ্ঞপ্তি প্রচার না করার বিষয়ে লিখিত মুচলেকাও প্রদান করেন।

এদিকে, গোরকঘাটা নদীবন্দরে ট্যারিফ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ট্যারিফ তফসিলের সব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের পক্ষ থেকেও নির্ধারিত বিধিবিধান ও ট্যারিফ তফসিল অনুসরণ করে সঠিক হারে ট্যারিফ আদায় নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি, গোরকঘাটা নদীবন্দরে ট্যারিফ আদায়ের ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট ধারা ও শর্তাবলির যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-কেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীবন্দরে ট্যারিফ আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত হার ও শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
একই সঙ্গে সাধারণ পর্যটক ও যাত্রীদের বিভ্রান্তি এড়াতে ট্যারিফসংক্রান্ত যেকোনো বিজ্ঞপ্তিতে মূল তফসিলের প্রযোজ্য শর্ত ও বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

















