বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক হামে দেশে হাজার শিশুর মৃত্যু

🗓 বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১০ সেপ্টেম্বর) :: দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) এ সংখ্যা হাজারের ঘর পেরিয়েছে। দেশের ইতিহাসে হামে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। অথচ গত প্রায় আট বছর ধরে হামে মৃত্যুর ঘটনা তো দূরের কথা, আক্রান্তের সংখ্যাও ৪০০ ছাড়ায়নি। ২০২৫ সালের মধ্যে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পরিবর্তে এবার দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১১৯ শিশু। একই সময়ে ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক তথ্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না। তবে রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে, কিন্তু শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে হামে মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চলতি বছরের পরিস্থিতির সঙ্গে আগের কয়েক বছরের চিত্রের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন। এর আগে ২০২৪ সালে ২৪৭ জন, ২০২৩ সালে ২৮২ জন এবং ২০২২ সালে ৩১১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে হাম নিয়ন্ত্রণে থাকার পর এবার পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, অন্য অনেক দেশের তুলনায় এবার বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ বেশি। বিপুলসংখ্যক শিশু এই রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিলেই হবে না, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি টিকার সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদানের কভারেজ কমে যাওয়া এবং বিশেষ ক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতা না থাকাকে বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী তিন কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই কর্মসূচিতে শতভাগ কভারেজ অর্জিত হয়। ২০১০ সালের ফলোআপ ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। সেবারও শতভাগ কভারেজ পাওয়া যায়।

২০১৪ সালে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী পাঁচ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ওই কর্মসূচিতেও কভারেজ ছিল ১০০ শতাংশের বেশি। কিন্তু ২০২০-২১ সালের পর আর কোনো বিশেষ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। একই সময়ে নিয়মিত টিকাদানের কভারেজও ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৫৯ শতাংশে।

টিকা সংগ্রহ নিয়েও গত বছর জটিলতা দেখা দেয়। বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া গত ৫ মে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছিল।

ইউনিসেফের আশঙ্কা ছিল, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হলে সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হতে পারে। এতে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। মার্চ থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এরপর এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে বিশেষ গণটিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।

হামের টিকা দেওয়ার জন্য ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে লক্ষ্যমাত্রার আওতায় রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছে প্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ শিশু। অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকা পায়নি।

অন্যদিকে, গত জুনে একই বয়সী প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হয়। এতে হাম টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে দেশে বাস্তবে থাকা একই বয়সী শিশুর সংখ্যার মধ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশে হাম সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। প্রায় সব বয়সী শিশুর মধ্যেই সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। ছয় থেকে নয় মাস, নয় মাস থেকে এক বছর এবং এক থেকে পাঁচ বছর—সব বয়সী শিশুর মধ্যেই হাম শনাক্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সংক্রমণ কিছুটা কমলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একবার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের হাম থেকে রক্ষায় শুধু হাসপাতালের শয্যা, আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; বরং রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার কোনো বিকল্প এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের জানা নেই।

এই বিভাগ এর আরো খবর

কুতুবদিয়ার অদম্য মেধা শরিফুল

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিলুপ্তির পথে কাজিরমার্কেট-কাটাফাঁড়ি সড়ক

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে আটক হলো ২২ অপরাধী

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টৈইটংয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান জাহেদ উল্লাহ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চকরিয়াকে ট্রাইবেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে রামুর জয়

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর