শনিবার ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকসেবি ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করে পুলিশের এএসআই’র মৃত্যু

🗓 মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

👁️ ১২৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

👁️ ১২৭ বার দেখা হয়েছে

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে এক মাদকসেবিকে ধরতে গিয়ে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা গেছেন রুপন কান্তি দে নামের পুলিশের এক এএসআই (সহকারী উপপরিদর্শক)।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে হারবাং বাসস্টেশন এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা।

ওইসময় সাথে অপর পুলিশ কর্মকর্তা এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বরইতলী রাস্তার মাথাস্থ মা-শিশু হাসপাতালে ও পরে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

স্ট্রোক জনিত কারণে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাঃ জায়নুল আবেদিন।

এএসআই রুপন কান্তি দে চকরিয়া উপজেলার হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকালে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোফাজ্জল হোসেন ও এএসআই রুপন কান্তি দে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হারবাং স্টেশন এলাকায় জুনাইদ উদ্দিন নামের এক মাদকসেবিকে ধরতে যান।

ওইসময় তাঁরা সেখানে পৌঁছে প্রথমে একটি দোকানে বসে চা পান করেন। কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষার পর মাদকসেবি জুনাইদ সামনে পড়লে তাঁকে ধরে ফেলে এসআই মোফাজ্জল। পরে এএসআই রুপন কান্তি দে মাদকসেবি জুনাইদকে ধরে রাখেন। এসময় হঠাৎ করে দাড়ানো অবস্থা থেকে লুটিয়ে পড়েন এএসআই রুপন কান্তি দে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এএসআই রুপন দে লুটিয়ে পড়ার পরপর সাথে থাকা এসআই মোফাজ্জল হোসেন, মাদকসেবি জুনাইদ মিলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে (রুপন দে) একটি টমটম গাড়িতে তুলে নিকটস্থ বরইতলী রাস্তার মাথাস্থ মা-শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

পরে সেখান থেকে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিমের সদস্যরা তাঁকে (রুপন কান্তি দে) চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে) নেওয়া হয়। অবশ্য হাসপাতালে নেয়ার পথে মাদকসেবি জুনাইদ গাড়ি থেকে সটকে পড়ে।

চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের টিএইচও ডাঃ জায়নুল আবেদিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগে মারা যান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। সহকর্মী পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছে, আগেও দুইবার অনুরূপভাবে স্ট্রোক করেছিলেন এএসআই রুপন কান্তি দে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনির হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য মতে এএসআই রুপন কান্তি দে স্ট্রোক করেছেন। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে সঙ্গে থাকা এসআই মোফাজ্জল হোসেন সহকর্মী রুপনের মৃত্যুর খবর শুনে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। তিনি শাররীক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) রাত এগারোটায় কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান (কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ) নামের দাপ্তরিক ফেসবুক পেইজে একটি বক্তব্য দিয়েছেন।

সেখানে তিনি জানিয়েছেন, অদ্য ২৩ মার্চ ২০২৬ খ্রি: তারিখে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্য এএসআই(নিঃ) রূপন কান্তি দে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে স্ট্রোক জনিত কারনে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।

উক্ত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইলেক্ট্রিক, প্রিন্ট মিডিয়া এবং স্যোসাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচারনায় সকলকে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর