সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভূমিধস ও হড়পা বানে ‘ব্যাপক হতাহত’ : নিখোঁজ হাজারো মানুষ

🗓 বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৫১ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

👁️ ৫১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ আগস্ট) :: নেপালের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে; ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্রোতে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদ।

বুধবারের এ ঘটনায় ৪০০ জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবারও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

এমন একটি পাহাড়ি এলাকায় এ বিপর্যয় ঘটেছে, যা ট্রেকিং ও তীর্থযাত্রার জন্য জনপ্রিয়। নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সীমান্তে নজিরবিহীন ভূমিধস ও হড়পা বানে প্লাবিত একাধিক গ্রাম, ধসে তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা ও সেতু। নূয়াকোট এবং ধাদিং জেলা থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

তবে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা (Nepal Flood) ছড়িয়ে পড়েছে বহু দূরে। জলপ্রবাহের টান ও ধসে নিখোঁজ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক, যাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন (105 Missing Indians)।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিধসে সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিগাতসে অঞ্চলের সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে এক উদ্ধারকর্মী বলেন, তারা গিরং সীমান্তবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

ড্রোন দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের সব সড়ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

পর্যটক ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার তালিকা

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক (Nepal News) রয়েছেন।

নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় বড় অংশই ভারতীয়। এ দিকে রসুয়া জেলায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ দিতে গিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দল নিজেরাই বিপদে পড়েছে।

অন্তত ২৬ জন নেপাল পুলিশ কর্মী এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) ৭ জন জওয়ানের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাকে ময়দানে নামানো হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি ও নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে।

বিপর্য্যস্ত জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো

উজান থেকে নেমে আসা জলরাশি নেপালের পাহাড়ি এলাকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে ছারখার করে দিয়েছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) জানিয়েছে, বানের ধাক্কায় তাদের অন্তত ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সাবস্টেশন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলির তালিকায় রয়েছে—

  • রসুওয়াগড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
  • চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  • ত্রিশূলী ৩এ
  • ত্রিশূলী ৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন
  • ত্রিশূলী হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন
  • দেবীঘাট হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন

বিদ্যুৎ উৎপাদন, বণ্টন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বিশাল অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভূমিধস ও জল জমার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক জাতীয় সড়ক।

ভয়াবহ হড়পা বানে খেলনার মতো দুমড়ে মুচড়ে ভেসে যায় ব্রিজ

জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর, নেপথ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন

নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডিআইজি অবিনারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয়ের গভীরতা পর্যালোচনা করতে ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’-র জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানান, রেড ক্রস, স্কাউট এবং বিশেষ চিকিৎসক দলকে সমন্বিত ভাবে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষায় প্রতি বছরই বন্যা ও ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হড়পা বানের মাত্রা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চীন সীমান্তে বন্যায় নেপালে নিহত ৮, তিব্বতে অনেকে নিখোঁজ

কেন ঘটল এই আকস্মিক বন্যা?

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েকদিনে তেমন বৃষ্টি হয়নি উত্তর নেপালে। এমনকী, রাসুয়ায় এ দিন সকালেও ছিল রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। তার মধ্যেই কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই তিব্বত থেকে নেমে আসা বিপুল জল ও কাদার স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় রাসুয়া-সহ উত্তর নেপালের একাধিক জেলা। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে রাসুয়া জেলার প্রায় এক ডজন গ্রাম।

প্রাথমিক ভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, রাসুয়ায় বড় ধরনের বৃষ্টিপাতের কারণে এই বন্যা হয়নি। স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে তিব্বতের দিকে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তার জেরে বাঁধ ভেঙে যায়। সেই বাঁধ ভাঙা বিপুল পরিমাণ জল ও কাদামাটির স্রোত হঠাৎ ভোতেকোশি নদীতে ঢুকে পড়ে এবং ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। তবে এ ছাড়া কোনও হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে জল নেমে এসেছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

নেপালে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও ভূমিধস নতুন ঘটনা নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। অতীতে নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার কী ঘটেছে নেপালে?

তিব্বত সীমান্ত থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা জল ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে রাসুয়া জেলার স্যাব্রুবেশি (Syabrubesi) ও তিমুরে (Timure) বাজার-সহ নদীর তীরবর্তী প্রায় এক ডজন গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী জনবসতিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উত্তরগয়া গ্রামীণ পুরসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান চামেলি গুরুং জানান, স্যাফ্রুবেশি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশুলি এবং বাত্তার সহ প্রায় এক ডজন গ্রাম ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। ফলে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা। বানের তোড়ে স্থানীয় হেলিপ্যাডটি ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারে যাওয়া সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করতে পারেনি, ফলে উদ্ধারকাজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এ ছাড়া বানের তোড়ে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ (Chilime Hydropower Project) স্থানীয় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। ফলে পুরো জেলায় নেমে এসেছে অন্ধকার। যা বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে।

তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহত’

তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহত’, সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা

নেপালের যে এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তবর্তী। তবে অঞ্চলটিতে কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাচ্ছে না। বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি তিব্বতে ‘ব্যাপক হতাহতের’ কথা উল্লেখ করেছিল। তবে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি।

সিসিটিভিতে ধারণ হওয়া একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসির যাচাই করা ওই ফুটেজে দেখে যায়, তিব্বতের গিরং সীমান্ত চৌকির একটি ভবনে কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ এসে আঘাত হানছে। এলাকাটি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের কাছে জনপ্রিয়। সেখানকার কয়েকটি গ্রাম আংশিকভাবে পানিতে ও কাদায় তলিয়ে গেছে।

চীন থেকে বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার জানিয়েছেন, দেশটিতে কোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বোঝা সবসময়ই কঠিন। কারণ, সব গণমাধ্যম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তিব্বতের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশনা দেন, তখন সাধারণত বোঝা যায়, ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর।

সিসিটিভির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলোকে ‘সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রাণহানি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।

সম্প্রচারমাধ্যমটির প্রকাশ করা ফুটেজে প্রবল স্রোতে গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে যেতে দেখা গেছে। একটি সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তিব্বতের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগাতসে এলাকার সড়কগুলো ভূমিধসের ঝুঁকিতে আছে এবং চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়।

বিবিসির ওয়েবসাইটে লরা বিকার লিখেছেন, তিব্বতের গিরং এলাকার সীমান্তটি চীন-নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান প্রবেশপথ। সেখানে প্রায় ৪ হাজার মানুষ বসবাস করে। স্থানীয় শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সেখানে বেশ কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছিল।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা ওই এলাকায় ভূমিকম্পের পর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

বন্যায় নেপালে ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ৩১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

কৃষিপণ্যে বছরে ক্ষতি ২৯ হাজার কোটি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়েছিল যেভাবে

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর