বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-নেপাল সীমান্তে নজিরবিহীন ভূমিধস ও হড়পা বানে নিখোঁজ হাজারো মানুষ

🗓 বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

👁️ ১২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ আগস্ট) :: চীন-নেপাল সীমান্তে নজিরবিহীন ভূমিধস ও হড়পা বানে প্লাবিত একাধিক গ্রাম, ধসে তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা ও সেতু। নূয়াকোট এবং ধাদিং জেলা থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

তবে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা (Nepal Flood) ছড়িয়ে পড়েছে বহু দূরে। জলপ্রবাহের টান ও ধসে নিখোঁজ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক, যাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন (105 Missing Indians)।

পর্যটক ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার তালিকা

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক (Nepal News) রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় বড় অংশই ভারতীয়। এ দিকে রসুয়া জেলায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ দিতে গিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দল নিজেরাই বিপদে পড়েছে।

অন্তত ২৬ জন নেপাল পুলিশ কর্মী এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) ৭ জন জওয়ানের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাকে ময়দানে নামানো হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি ও নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে।

 

বিপর্য্যস্ত জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো

উজান থেকে নেমে আসা জলরাশি নেপালের পাহাড়ি এলাকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে ছারখার করে দিয়েছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) জানিয়েছে, বানের ধাক্কায় তাদের অন্তত ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সাবস্টেশন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলির তালিকায় রয়েছে—

  • রসুওয়াগড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
  • চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  • ত্রিশূলী ৩এ
  • ত্রিশূলী ৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন
  • ত্রিশূলী হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন
  • দেবীঘাট হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন

বিদ্যুৎ উৎপাদন, বণ্টন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বিশাল অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভূমিধস ও জল জমার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক জাতীয় সড়ক।

ভয়াবহ হড়পা বানে খেলনার মতো দুমড়ে মুচড়ে ভেসে যায় ব্রিজ

জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর, নেপথ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন

নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডিআইজি অবিনারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয়ের গভীরতা পর্যালোচনা করতে ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’-র জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানান, রেড ক্রস, স্কাউট এবং বিশেষ চিকিৎসক দলকে সমন্বিত ভাবে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষায় প্রতি বছরই বন্যা ও ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হড়পা বানের মাত্রা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চীন সীমান্তে বন্যায় নেপালে নিহত ৮, তিব্বতে অনেকে নিখোঁজ

কেন ঘটল এই আকস্মিক বন্যা?

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েকদিনে তেমন বৃষ্টি হয়নি উত্তর নেপালে। এমনকী, রাসুয়ায় এ দিন সকালেও ছিল রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। তার মধ্যেই কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই তিব্বত থেকে নেমে আসা বিপুল জল ও কাদার স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় রাসুয়া-সহ উত্তর নেপালের একাধিক জেলা। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে রাসুয়া জেলার প্রায় এক ডজন গ্রাম।

প্রাথমিক ভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, রাসুয়ায় বড় ধরনের বৃষ্টিপাতের কারণে এই বন্যা হয়নি। স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে তিব্বতের দিকে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তার জেরে বাঁধ ভেঙে যায়। সেই বাঁধ ভাঙা বিপুল পরিমাণ জল ও কাদামাটির স্রোত হঠাৎ ভোতেকোশি নদীতে ঢুকে পড়ে এবং ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। তবে এ ছাড়া কোনও হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে জল নেমে এসেছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

নেপালে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও ভূমিধস নতুন ঘটনা নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। অতীতে নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার কী ঘটেছে নেপালে?

তিব্বত সীমান্ত থেকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা জল ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে রাসুয়া জেলার স্যাব্রুবেশি (Syabrubesi) ও তিমুরে (Timure) বাজার-সহ নদীর তীরবর্তী প্রায় এক ডজন গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী জনবসতিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উত্তরগয়া গ্রামীণ পুরসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান চামেলি গুরুং জানান, স্যাফ্রুবেশি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশুলি এবং বাত্তার সহ প্রায় এক ডজন গ্রাম ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। ফলে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা। বানের তোড়ে স্থানীয় হেলিপ্যাডটি ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারে যাওয়া সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করতে পারেনি, ফলে উদ্ধারকাজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এ ছাড়া বানের তোড়ে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ (Chilime Hydropower Project) স্থানীয় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। ফলে পুরো জেলায় নেমে এসেছে অন্ধকার। যা বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর